পরিবহন খরচ ও জাহাজ ভাড়া আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রক্রিয়া চালুর কথা বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেল রফতানি পথ পরিবর্তন হয়েছে। এতে বাড়তি খরচের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য বিজনেসলাইন।
নতুন এ প্রস্তাব অনুযায়ী, মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় সিদি কেরির বন্দর থেকে যেসব অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খালাস করা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হতে পারে। মূলত এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর বাড়তি পরিবহন খরচ পুষিয়ে নিতেই এ মূল্য পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য এ পরিবর্তন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সৌদি আরামকো।
লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি তেলবাহী জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এরপর সৌদি আরব বাধ্য হয়ে মিসরের পাইপলাইন ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাঠানোর পথ বেছে নেয়। এতে সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ এড়ানো সম্ভব হলেও সরবরাহের মোট খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
এর আগেও পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের নৌ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তখন থেকেই সৌদি আরামকো নিজস্ব পাইপলাইন ব্যবহার শুরু করে। এ পাইপলাইনগুলো দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় তেল ক্ষেত্রগুলো থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে জ্বালানি তেল পাঠানো হতো। তারপর সেখান থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হতো সেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। ইয়ানবু থেকে রফতানি করা জ্বালানি তেল সাধারণত নির্ধারিত মাসিক বাজার দর এবং পাইপলাইন ফি যোগ করে বিক্রি করা হতো।
তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন করে হুথিদের হুমকির মুখে এ সরবরাহ প্রক্রিয়ায় আবারো পরিবর্তন আনতে হয়েছে। বর্তমানে ইয়ানবু বন্দর থেকে জ্বালানি তেল লোহিত সাগর পার করে মিসরের আইন সুখনা বন্দরে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পৌঁছায় ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দরে।
এরপর সিদি কেরির বন্দর থেকে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোকে ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালি এবং পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে এশিয়ার বন্দরগুলোয় পৌঁছায়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় একদিকে জাহাজের যাতায়াত সময় বাড়ছে, অন্যদিকে জ্বালানি ও পরিচালনা ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প এ দীর্ঘ পথের কারণে জাহাজপ্রতি পরিবহন খরচ প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে এশীয় ক্রেতাদের জন্য ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে সৌদি আরব সরবরাহ চালু রাখতে চাইলেও বাড়তি এ খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত এশিয়ার রিফাইনারিগুলোর ওপরই পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।